নবাবগঞ্জঃ পানিশূন্য ইছামতি এখন বয়ে যাওয়া একটি বক্ররেখা মাত্র।

এক সময়ের খরস্রোত ইছামতি এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। পানিশূন্য ইছামতিতে এখন ধান চাষ করা হচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর সংযোগস্থল মরিচা হতে কাশিয়াখালী বেরিবাঁধ পর্যন্ত কিছু কিছু অংশে পানি থাকলেও বেশীর ভাগ অংশ জুড়েই পানি শূন্য খাল হয়ে আছে। এদিকে পানির উপর নির্ভরশীল এই জপদের হাজার হাজার মানুষ প্রাকৃতিক পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক সময় এই ইছামতি ছিলো খেটে খাওয়া মানুষের আয়ের উৎস। নদী উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার জেলে পরিবার আজ কর্মহীন হয়ে আছে। স্থানীয় কৃষকরা নদীর পানি দিয়ে কৃষিকাজ থেকে শুরু করে গরু ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ইছামতি নদীর শাখা প্রশাখা ০৬টি উপজেলায় জালের মতো বিস্তৃত ছিলো। বর্তমানে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান ও শ্রীনগরের কিছু অংশ বিদ্যমান রয়েছে। ইছামতির অস্তিত্ব শুধু নবাবগঞ্জে টিকে রয়েছে পানিশূন্য অবস্থায়। ক্রমাগত পানিশূন্য থাকায় নদী হারিয়েছে তার সীমানা। কাগজে কলমে নদী থাকলেও এর অস্তিত্ব এখন হুমকীর মুখে। ইছামতির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য বেশকিছু সামাজিক সংগঠন গড়ে উঠলেও কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারছেন না। ভিন্ন ভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে তুলে ধরলেও আলোর মুখ দেখছে না। অথচ ইছামতি এই জনপদের বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদ। এই সম্পদ হারিয়ে ফেললে মারামত্বক পরিবেশ দূষনের মুখ পরবে এই জনপদের মানুষগুলো। যে করেই হোকে দায়িত্ব নিতে হবে সকলকে। সরকারের উচ্চ মহলেকে বুঝাতে হবে । এক সময় ইছামতিকে কেন্দ্র করে সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। এর নির্দশন কলাকোপায় দেখতে পাওয়া যায়। এই নদীকে কেন্দ্র গড়ে উঠেছিলো বড় বড় হাট বাজার এবং স্কুল। নিকট অতীতেও আমরা ইছামতির ভরা যৌবনকে দেখেছি। নদীর পার ঘেষে দীর্ঘদেহী মঠগুলো যেন এখনো চোখে ভাসে। ছোট বেলায় যখন কেরাই নৌকা দিয়ে নদীতে বেড়াতে যেতাম তখন রাঁধাকান্তপুর মঠ, হরিষকুলের মঠ, বাগমারায় ছিলো আরো একটি মঠ। দূর থেকে উচুঁ মাথা দেখতে পাওয়া যেতো। কাছে আসলে এর সূইচ্চ মাথার দিকে তাকালে দিগন্তের দিকে হারিয়ে যেতে হতো কিছু সময়ের জন্য।এই নদীর যৌবনে দেখেছি নানান ধরনের কেরাই নৌকা, কুষা নৌকা, ডিঙ্গি নৌকা, গয়নার নৌকা- আমরা দেখেছি সারথী, মুন্নিসহ নানান নামের লঞ্চগুলো। পরিবেশ নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের একজন সাংবাদিক রাসিম মোল্লার মতে, “ আগামী বছরগুলোর মধ্যে ইছামতি নদী সংস্কার করা না হলে, এর অস্থিত্ব টিকিয়ে রাখা দায় হয়ে পড়বে , বিলীন হয়ে যাবে এই নদী- যেমনটি হয়েছে মুন্সিগঞ্জের উপজেলাসমূহে।”
ইছামতি এখন শুধুই নবাবগঞ্জের উপর বয়ে যাওয়া একটি বক্ররেখা। এই নদী থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। একদিকে পানির নাব্যতার অভাব তার উপর স্থানীয় বাজার ঘাট হাসপাতাল ক্লিনিকের ময়লা নদীকে আরো ভরাটে তরান্বিত করে চলছে।
নদী নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের মতে ইছামতিকে বাঁচাতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সরকারের অগ্রাধিকার কাজের মধ্যে এটিকে সংযুক্ত করতে হবে। নতুবা হারিয়ে ফেলবো ইছামতিকে-পানিশূন্য ইছামতিকে আমরা তুলে দিয়ে যাবো প্রজন্মের হাতে। এখনি সময় ইছামতিকে বাঁচানোর। আসুন আমরা যার যার অবস্থান থেকে বিষয়টি তুলে ধরি সরকারের উচ্চ মহলে- এটি করতে হবে আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থে।


Comments
Post a Comment