জাবিতে পাখি মেলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাবিতে পাখি মেলা

‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন সবাই করি যতœ’ স্লোগানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০তম পাখিমেলা-২০২০।
গতকাল বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। দিনব্যাপী মেলার বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে  ছিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা (পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী), আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা (অডিও-ভিজুয়ালের মাধ্যমে), উপস্থিত সবার অংশগ্রহণে পাখিবিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সবশেষে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে মেলার আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, ‘মেলার মূল উদ্দেশ্য পাখি সম্পর্কে গণসচেতনতা বাড়ানো। এ সচেতনতা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে হবে। যাতে পাখির কোনো প্রজাতি বিলুপ্তির দিকে না যায়।’ তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পাখির সংখ্যা বেড়েছে। প্রথম দিকে কোলাহল কম থাকায় প্রশাসনিক ভবনের পাশের লেকে এবার সবচেয়ে বেশি পাখি এসেছিল। পরে কোলাহলের কারণে পাখিরা আবার অন্য লেকগুলোতে সরে যায়। সুতরাং কোলাহলমুক্ত থাকলে পাখি বেশি দেখা যাবে।’ এ সময় পাখি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর বেশি সংখ্যক অতিথি পাখি এসেছে। এর মধ্যে পরিযায়ী পাখির পাশাপাশি রয়েছে দেশীয় নানা প্রজাতিও। পাখির বিচরণক্ষেত্রকে দর্শনার্থীদের উৎপাত ও দূষণমুক্ত রাখতে পারলে পাখির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’ প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মফিজুল কবির বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৯ প্রজাতি থেকে এখন ২০৪ প্রজাতির পাখি আসছে।’ অনুষ্ঠানে বক্তারা পাখির বিচরণক্ষেত্র দূষণমুক্ত রাখা ও পাখির ভীতির সঞ্চার করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাখিমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ট্রেজারার অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচারের (আইইউসিএন) কান্ট্রি ডিরেক্টর রাকিবুল আমিন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 

Comments

Popular posts from this blog

নবাবগঞ্জঃ পানিশূন্য ইছামতি এখন বয়ে যাওয়া একটি বক্ররেখা মাত্র।