নতুন ভূমিতে নতুন স্বপ্ন-হচ্ছে পরিকল্পনা, আসছে বিনিয়োগ প্রস্তাব
সাগরের বুক চিরে জেগে উঠছে নতুন ভূমি। নতুন স্বপ্নও দেখা দিচ্ছে সেই ভূমি ঘিরে। হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে নতুন ভূমিতে হচ্ছে অত্যাধুনিক কলকারখানা। হচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল। হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রও। মিরসরাইয়ে ৩০ হাজার একরের বিশাল ভূমিতে হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরী নামে পরিচিত নতুন ভূমির এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে এরই মধ্যে ৮২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। মহেশখালীর নতুন ভূমি ঘিরে হয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) টার্মিনাল। কয়লাভিত্তিক ১২টি, বায়ুভিত্তিক একটি ও সৌরশক্তির দুটিসহ ১৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের মহাপরিকল্পনা আছে এ দ্বীপে। একটি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে মহেশখালীতে। সন্দ্বীপের জেগে ওঠা নতুন ভূমি ঘিরেও হচ্ছে উন্নয়ন পরিকল্পনা। অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে সেখানে। আবার লবণশিল্পের জন্য আলাদা একটি জোন করারও পরিকল্পনা আছে সন্দ্বীপে।
১৪৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সন্দ্বীপের তিন পাশে গড়ে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ মূল সন্দ্বীপের প্রায় দ্বিগুণ। আবার নোয়াখালী জেলা ঘিরে গড়ে উঠেছে নিঝুমদ্বীপ, চরকবিরা, চরআলীম, সাগরিয়া, উচখালী, নিউ ডালচর, কেরিংচরসহ প্রায় পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটারের নতুন ভূমি। এ জেলার দক্ষিণ প্রান্তে জেগে ওঠা নতুন ভূমির মধ্যে প্রায় সাত হাজার হেক্টরে বনায়নও করেছে বন বিভাগ। নতুন ভূমি জেগে উঠেছে খুলনার সুন্দরবন এলাকা ঘিরেও। ভূমি মন্ত্রণালয় বলছে, আস্তে আস্তে টেকসই হয়ে ওঠা নতুন ভূমির পরিমাণ অন্তত ১০ লাখ হেক্টর। তবে টেকসই হওয়ার অপেক্ষায় থাকা নতুন ভূমি আছে আরও প্রায় ২০ লাখ হেক্টর।
জেগে ওঠা নতুন ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে ২০১৬ সালে 'কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন' নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করার উদ্যোগ নেয় ভূমি মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ সম্প্রতি বলেন, 'নতুন ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ জন্য একটি আইন চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এই আইনের খসড়ায় ভূমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার ও কৃষিজমি সুরক্ষাসহ ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়াদি সম্পর্কে দিকনির্দেশনা থাকবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টেরও একটি নির্দেশনা আছে।'
Samkal
Comments
Post a Comment